সাপ্তাহিক পুঁজিবাজার

ডিএসইএক্স বেড়েছে সাড়ে ৩ শতাংশের বেশি

গড়ে লেনদেন ৬৩৬ কোটি টাকা

দেশের পুঁজিবাজারে গত সপ্তাহে সূচক ও লেনদেন দুটোই ঊর্ধ্বমুখী ছিল।

দেশের পুঁজিবাজারে গত সপ্তাহে সূচক ও লেনদেন দুটোই ঊর্ধ্বমুখী ছিল। আলোচ্য সপ্তাহে প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স বেড়েছে ৩ দশমিক ৫৫ শতাংশ। পাশাপাশি দৈনিক গড় লেনদেন হয়েছে ৬৩৬ কোটি ২১ লাখ টাকা। ডিএসইর সাপ্তাহিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত সপ্তাহে ডিএসইএক্স সূচক এর আগের সপ্তাহের তুলনায় ১৭৪ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৬৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ৪ হাজার ৮৯৪ পয়েন্ট। নির্বাচিত কোম্পানির সূচক ডিএস-৩০ সপ্তাহের ব্যবধানে সাড়ে ৭২ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৯০৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ১ হাজার ৮৩৬ পয়েন্ট। এছাড়া শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস গত সপ্তাহে সাড়ে ৩৫ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ১০১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ১ হাজার ৬৫ পয়েন্ট।

ডিএসইতে গত সপ্তাহে লেনদেন হওয়া মোট ৩৯৪টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৩২৪টির, কমেছে ৩৫টির ও অপরিবর্তিত ছিল ৩৫টির শেয়ারদর। আর লেনদেন হয়নি ১৯টির। গত সপ্তাহে সূচকের উত্থানে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে ব্র্যাক ব্যাংক, বেক্সিমকো ফার্মা, ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ, ন্যাশনাল ব্যাংক ও ইস্টার্ন ব্যাংকের শেয়ার।

ডিএসইতে গত সপ্তাহের চার কার্যদিবস দৈনিক গড় লেনদেন হয়েছে ৬৩৬ কোটি ২১ লাখ টাকা, আগের সপ্তাহে যেখানে গড় লেনদেন ছিল ৪৮৬ কোটি ১৫ লাখ টাকা। সে হিসাবে এক সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইতে গড় লেনদেন বেড়েছে প্রায় ৩১ শতাংশ।

বাজারবিশ্লেষকরা বলছেন, সপ্তাহের শুরুতেই ব্যাংক খাতের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স জেরে দেশের পুঁজিবাজার অনেকটাই চাঙা হয়ে ওঠে। সপ্তাহের মাঝামাঝি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ৩৫ শতাংশ শুল্ক ঘোষণার খবরে কিছুটা সংশয় তৈরি হলেও বিনিয়োগকারীদের মনোভাব ছিল ইতিবাচক।

খাতভিত্তিক লেনদেনে গত সপ্তাহে ব্যাংক খাতের আধিপত্য ছিল। লেনদেনচিত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত সপ্তাহে ডিএসইর মোট লেনদেনের ১৯ দশমিক ১৩ শতাংশ দখলে নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে ব্যাংক খাত। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৩ দশমিক ৫৯ শতাংশ দখলে নিয়েছে ওষুধ ও রসায়ন খাত। ১০ দশমিক ৪৩ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে বস্ত্র খাত। এছাড়া ৯ দশমিক ৭৩ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে চতুর্থ অবস্থানে ছিল খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাত। আর পঞ্চম স্থানে থাকা প্রকৌশল খাতের দখলে ছিল লেনদেনের ৮ দশমিক ২২ শতাংশ।

গত সপ্তাহে ডিএসইতে একটি খাত বাদে সব খাতের শেয়ারেই ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে। এর মধ্যে জীবন বীমা খাতের শেয়ারে সবচেয়ে বেশি ৭ দশমিক ৪৯ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে। এছাড়া কাগজ ও মুদ্রণ খাতে ৭ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ, পাট খাতে ৫ দশমিক ৯৬, ভ্রমণ ও অবকাশ খাতে ৫ দশমিক ১৩ এবং চামড়া প্রতিষ্ঠান খাতে ৫ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন ছিল। অন্যদিকে গত সপ্তাহে করপোরেট বন্ড খাতে দশমিক ১৫ শতাংশ নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে।

দেশের আরেক পুঁজিবাজার চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) গত সপ্তাহে সার্বিক সূচক সিএএসপিআই প্রায় ৩ দশমিক ৩০ শতাংশ বেড়ে ১৪ হাজার ৭৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ১৩ হাজার ৬২৮ পয়েন্ট। সিএসসিএক্স সূচক গত সপ্তাহ শেষে ৩ দশমিক ১৯ শতাংশ বেড়ে ৮ হাজার ৫৯৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ৮ হাজার ৩৩২ পয়েন্ট।

সিএসইতে গত সপ্তাহে মোট ৭৪ কোটি ৯৯ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে, আগের সপ্তাহে যেখানে মোট লেনদেন ছিল ৮৭ কোটি ৮১ লাখ টাকা। আলোচ্য সপ্তাহে সিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩২০টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ২৪২টির, কমেছে ৫৮টির আর অপরিবর্তিত ছিল ২০টির বাজারদর।

আরও